Tuesday, November 17, 2015

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা-আনোয়ারুল ইসলাম


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব সম্ভাবনা-আনোয়ারুল ইসলাম
ভূমিকা :
          ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বাণিজ্য সভ্যতার উষালঘ্ন হতে সকল সমাজে পণ্য সেবা সামগ্রী সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সহজ অর্থে মুনাফা অর্জনের উদ্দ্যেশ্যে পণ্য দ্রব্য বিনিময় বন্টন সংক্রান্ত কাজকেই বাণিজ্য বলে বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের কোন দেশে এমনকি একই দেশের সকল অঞ্চল একই প্রকার দ্রব্য সেবা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় কারণে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সেবা সুবিধা ভোগের জন্য পৃথিবীর এক দেশ অন্য দেশের উপর বা এক অঞ্চল অন্য অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে বিভিন্ন দেশের অঞ্চলের এরূপ আন্তঃনির্ভরশীলতা থেকেই বৈদেশিক বাণিজ্যের উৎপত্তি শ্রমের বিশেষায়নের উপর ভিত্তি করে অন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্যের উৎপত্তি শ্রমের বিশেষায়ন বা কোন দ্রব্য উৎপাদনে কোন দেশের অর্জিত পারদর্শিতা দেশকে তুলনামূলক ব্যয় সুবিধায় উক্ত দ্রব্য উৎপাদনে সক্ষম করে তুলে নিচে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্কে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংস্থা সহ বৈদেশিক বাণিজ্যের সজ্ঞা দেয়া হল
Q  বৈদেশিক বাণিজ্য :
                বিভিন্ন প্রকৃতিক বৈষয়িক সুবিধা উৎপাদনে বিশেষজ্ঞাত শ্রম বিভাগের ফলে কোন দেশের বিশেষ পণ্যের উদ্বৃত্ত উৎপাদন ঘাটতি দেশসমূহে বিক্রয় করাকে আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য বলে ব্যাপক অর্থে দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে পণ্যদ্রব্য সেবা কর্মাদির আদান - প্রদান, ক্রয়- বিক্রয় বা বিনিময় কার্যকেই বৈদেশিক বাণিজ্য বা ব্যবসায় বলা হয়
&  কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা :
                অধ্যাপক জে এল হ্যানসনের মতে, সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের মাঝে বিভিন্ন   বিশেষায়িত পণ্য বা সেবা কর্মের যে বিনিময় হয় তা বৈদেশিক বানিজ্য হিসেবে গণ্য
            Prof. C.P. Kindleberger : International trade is the transaction of goods and service between two or more sovereign countries অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হলো দুই বা ততোধিক সার্বভৌম দেশের মধ্যে পণ্য সেবা কর্মের লেনদেন
                অধ্যাপক এস সি ভেইস বলেনস্বাধীন বা সার্বভৌম রাষ্ট্র বা দেশ সমূহের জনসাধারণের মধ্যে পণ্য দ্রব্য এবং সেবার বিনিময়কে আন্তর্জাতিক বানিজ্য বলে
উপরের আলোচনা সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ পূর্বক বলা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সেবার আদান প্রদান বা বিনিময় কার্যকে বৈদের্শিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে

Q  বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের উদ্দ্যেশ্যসমূহ :
                        বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ততটা উন্নত নয় বিভিন্ন উদ্দ্যেশ্যে এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সংগটিত হয়ে থাকে নিম্নে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের উদ্দ্যেশ্যসমূহ আলোচনা করা হলো :-
. উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্রী রপ্তানি :   
                এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান উদ্দ্যেশ্য হলো উদ্বৃত্ত পণ্য সামগ্রী রপ্তানি করা এতে দেশে শিল্পের বিকাশ ঘটে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় বাংলাদেশ পাট, চা, চামড়া, চিংড়ি, তৈরি পোষাক ইত্যাদির অভ্যান্তরীন চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে থাকে
. যন্ত্রপাতি কাচাঁমাল আমদানি :
                        এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য হলো দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যন্ত্রপাতি কাচাঁমাল আমদানি করা আমাদের দেশের কৃষি, শিল্প, পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন শিল্পের কাচাঁমাল বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে আমদানি করা হয় এগুলো দ্বারা নিজ দেশের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্যী উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মিটানো হয় এভাবে নিজ দেশের শিল্পের বিকাশ সাধন করা সম্ভব ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়
.অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য আমদানি :
                        আমাদের খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের অভাব রয়েছে আমদানির মাধ্যমে সে অভাব পূরণ করা সম্ভব কোন দেশই খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি যে দেশ পণ্য উৎপাদন করতে পারেনা, সে দেশ সেই পণ্য আমদানি করে  চাহিদা  মিটাতে পারে আর বৈদেশিক বাণ্যিজ্যের দ্বারাই এটি সম্ভব
. দেশীয় পণ্যের বাজার সৃষ্টি :
                বিদেশে পণ্যের বাজার সৃষ্টি করাও বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের  অন্যতম উদ্দ্যেশে বৈদেশিক বাণিজ্যের দ্বারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পণ্যের বাজার সম্প্র্রসারণ করা সম্ভব হয় কেননা পণ্য বিনিময়ের সুযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিচিতি লাভ করে এতে বিদেশে নিজ দেশের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে পণ্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়
. রপ্তানি বৃদ্ধি করা :
                বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি জনপদ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের শিল্পপণ্য উৎপাদন করে দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি করার প্রচুর সম্ভাবনা থাকলেও  যথাযথ শিল্পায়নের অভাবে অধিকাংশ প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত থেকে যায় এমতাবস্থায় সরকারি বেসরকারি উদ্দ্যেগে বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি করা বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য
. আমদানি-বিকল্প শিল্পস্থাপনে উৎসাহিত করা :
                  বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য মূলত আমদানি নির্ভর আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবসময়ই প্রতিকূলতা বিরাজমান এমতাবস্থায় বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে পর্যাপ্ত পরিমানে আমদানি-বিকল্প শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করা বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম উদ্দ্যেশ্য
. প্রচলিত পণ্যের নতুন নতুন বাজার  সৃষ্টি :
                বাংলাদেশে উৎপাদিত এমন অনেক ক্ষুদ্র কুটির শিল্পজাত পণ্য আছে , যে গুলো প্রচলিত পণ্য হিসেবে স্বীকৃত দেশের অভ্যান্তরীন গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও এগুলোর বেশ চাহিদা রয়েছে এমতাবস্থায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় অংশ গ্রহনের ব্যবস্থা করে এসব প্রচলিত পণ্যের নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করণ বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দ্যেশ্য
. অপ্রচলিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি :
                বাংলাদেশে উৎপাদিত এমন অনেক পণ্য আছে যেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহারোপযোগীতা থাকলেও যথাযথ প্রচার পরিচিতির অভাবে অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে চিহ্নিত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এসব অপ্রচলিত পণ্যের যথাযথ প্রচার পরিচিতির ব্যবস্থা করে বিদেশে এগুলোর বাজার সৃষ্টি করণ বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের আরেকটি গুররুত্বপূর্ণ উদ্দ্যেশ্য
. জনশক্তি রপ্তানি :
                বাংলাদেশ বিশ্বের জনবহূল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম পর্যাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের অভাবে এদেশের দক্ষ আদা-দক্ষ শ্রমিকের একটি বিরাট অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে এমতাবস্থায়  বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে এসব শ্রমিকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য
১০. পণ্যের মান উন্নত করা :
                বর্তমানকালে বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান প্রচুর সংখ্যক সমজাতীয় পণ্য উৎপাদন করে থাকে ফলে বাজারে সবসময় তীব্র প্রতিযোগীতা বিরাজ করে এমতাবস্থায় প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার জন্য পণ্যের মানোন্নয়ন ছাড়া গত্যন্তর নেই সুতরাং পণ্যের মান উন্নত করাও বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যর একটি উদ্দ্যেশ্য
১১. শিল্পের স্থানীয়করণ :
                আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে এক দেশের পণ্যসামগ্রী অন্য দেশে আমদানি রপ্তানি করা যায় শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালও অন্য দেশ থেকে আমদানি করা যায় এতে দেশে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে যার ফলে যেকোন দেশের শিল্পের স্থানীয়করণ করা সম্ভব হয় সুতরাং বলা যায়, শিল্পের স্থানীয় করণও বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য
১২. দ্রুত শিল্পায়ন :
                দীর্ঘ দিনের ঔপনিবেশিক পাকিস্থানি শাসন-শোষণের কারণে বাংলাদেশের তেমন কোনো শিল্প কার খানা গড়ে উঠেনি ফলে বিপুল জনসংখ্যা অধ্যূষিত বাংলাদেশের জীবনযাত্রার মান খুবই নি¤œ এবং অধিকাংশ লোক বেকার এমতাবস্থায় জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত শিল্পায়ন প্রয়োজন সুতরাং এদেশে দ্রুত শিল্পায়ন ঘটানো বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দ্যেশ্য
১৩. অন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন :
                বিশ্বের কোন দেশ জাতিই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় কোনো না কোনো বিষয়ে এক দেশ অন্য দেশের উপর নির্ভশীল আর নির্ভশীলতার কারণেই প্রয়োজন হয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের আর একমাত্র ব্যবসায় বাণিজ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব সুতরাং বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য হল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন 
১৪. মদ্রা বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা রক্ষা :
                বিশ্বের সকল দেশে একই রকম মুদ্রা প্রচলিত নয় ফলে এক দেশের মুদ্রা অন্য দেশে সম্পূর্ণ অচল আর এজন্য উদ্ভব হয়েছে বিনিময় হারের তবে যথাযথ  বাণিজ্যনীতিতে মুদ্রা বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করার উদ্দ্যেশ্যেও  বৈদেশিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়ে থাকে
১৫. ক্ষুদ্র কুটি শিল্পের উন্নয়ন :
                        বাংলাদেশে উৎপাদিত এমন অনেক ক্ষুদ্র কুটির শিল্পজাত দ্রব্য রয়েছে যেগুলোর দেশের অভ্যন্তরীণ গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারেও বেশ চাহিদা রয়েছে দেশের এসব ক্ষুদ্র কুটির শিল্পজাত দ্রব্য সামগ্রীর মাধ্যমে রপ্তানি বাজারকে সম্প্রসারিত করাসহ ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের উন্নয়ন ঘটানো বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য
১৬. লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা :
                বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবাধ বাণিজ্য প্রচলিত এমতাবস্থায় যথাযথ বাণিজ্যনীতির অভাবে বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের মধ্যে লেনদেনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় যা একটি দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে তাই লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের আরেকটি উদ্দ্যেশ্য
১৭. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন :
        বৈদেশিক বাণিজ্যের উদ্দ্যেশ্যে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায় আর রপ্তানিযোগ্য পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের জন্য শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয় সাথে সাথে বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এর ফলে জনগনের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়
১৮. প্রকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা :
                বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অরেকটি বিশেষ উদ্দ্যেশ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা প্রকৃতিনির্ভর এদেশে যে কোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে বৈদেশিক বাণিজ্যের সাহায্যে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য সমগ্রী তাৎক্ষনিক ভাবে আমদানি করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা তথা পণ্যের সংকট লাঘব করা যায় এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে এবং জীবন রক্ষা পায়
১৯. কারিগরি প্রযুক্তি জ্ঞানের আদান-প্রদান :
                বাংলাদেশের কারিগরি প্রযুক্তি জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে আর অবাব পূরণের জন্য বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে কারিগরি প্রযুক্তিজ্ঞান আমদানি করে শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সুতরাং এদশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে কারিগরি প্রযুক্তি জ্ঞানের আদান-প্রদান করা
২০. বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস :
                এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের আরেকটি উদ্দ্যেশ্য হলো বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস বাংলাদেশের অর্থনীতি বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীর জাতীয় বাজেট উন্নয়ন খাতে ৪৯% বৈদেশিক সাহায্য দ্বারা মিটানো হয় রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে সুতরাং বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাসকল্পে রপ্তানির পরিমান বাড়াতে হবে
২১. একচেটিয়া বাজার প্রতিরোধ :
                বৈদেশিক বাণিজ্যের গতিশীলতা বৃদ্ধি করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বহুজাতিক কোম্পানি গুলোর একচেটিয়া বাজার প্রতিরোধ করা যায় সকল ব্যবসায়ী আমদানি রপ্তানিতে অংশগ্রহন করতে পারে, যার ফলে প্রতিযোগীতা সৃষ্টি হয়ে একচেটিয়া বাজার সৃষ্টির মনোভাব দূরীভূত হবে বৈদেশিক বাণিজ্য একচেটিয়া বাজার প্রতিরোধ করে  দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সুতরাং একচেটিয়া বাজার প্রতিরোধ করার উদ্দ্যেশ্যেও এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়ে থাকে
২২. দেশের সমৃদ্ধি অর্জন :
                বৈদেশিক বানিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব ফলে দেশের অর্থনীতি কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং জনগনের মাথাপিছু আয় বেড়ে যাবে সুতরাং এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের আরেকটি উদ্দ্যেশ্য হলো দেশের সমৃদ্ধি অর্জন করা
ÿ  উপসংহার :
                উপর্যুক্ত  আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, পরির্বতনশীল বিশ্ব পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ যথাযথ বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নয়ন বিকাশ সাধনের উপর এদেশের অর্থনেতিক উন্নয়ন নির্ভরশীল সুতরাং বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য বৈদেশিক বাণিজ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে
F   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্যের ভূমিকা / গুরুত্ব :
                বিভিন্ন উন্নত দেশের অর্থনৈতিক উন্ননের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বৈদেশিক বাণিজ্য সকল দেশের মূলধন গঠন, দারিদ্র বিমোচান, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনীতির কৃষি নির্ভরতা কাটিয়ে শিল্প নির্ভরতায় রূপান্তর ইত্যাদির মাধ্যমে সব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তাই দেখা যায়, কোন উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সাথে বৈদেশিক বাণিজ্যের ধনাত্নক সম্পর্ক বিদ্যমান আর এজন্যই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ H.G. Jonhson বৈদেশিক বাণিজ্যকে Engine of economic growth হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নিম্নে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো :-
. শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কাঁচামালের আমদানি :
                বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বিদেশ হতে তুলনামূলক ব্যয় সুবিধার আলোকে শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি শিল্পীয় কাঁচামাল আমদানি করে নুন্যতম ব্যয়ে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা যায় স্বল্প ব্যয়ে উৎপাদিত এসব পণ্য আমদানি বিকল্প পণ্য হিসেবে দেশীয় চাহিদা পূরণে যেমনি সক্ষম হয়, তেমনি উদ্ধৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় অর্জন করা সম্ভব ফলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে দেশে বিনিয়োগ এবং শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য হয়
. দেশীয় পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি :
                বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরণের কৃষিজাত, শিল্পজাত, প্রচলিত-অপ্রচলিত পণ্য দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমানে রপ্তানি আয় অর্জন করে এতে দেশীয় উৎপাদকগণ অধিক পরিমানে পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হয় এবং দেশে ব্যাপক উৎপাদনের ধারাও প্রতিষ্ঠিত হয়
. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন :
                বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতের ব্যাপক উন্ননের লক্ষ্যে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বিদ্যমান অথচ আমাদের দেশে এরূপ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমান খুবই নগণ্য তাই দেশীয় কৃষি-অকৃষি বিভিন্ন শিল্প পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন এতে দেশের র্অনৈতিক উন্ননের সকল সূচকেরই উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব
. জনশক্তির সদ্ব্যবহার :
                বাংলাদেশ অত্যধিক জনসংখ্যার দেশ দেশের অর্ধেকেরও বেশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বেকার দেশের এরূপ দক্ষ-অদক্ষ প্রচুর বেকার জনশক্তি বিদেশে রপ্তানি করে একদিকে যেমন মানুষকে বেকার জীরন থেকে মুক্তি দেয়া যায়, অন্যদিকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি সঞ্চার করা সম্ভব
. বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস :
                        আমাদের অর্থনীতি এখনো পর্যন্ত অনেকটা বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা অনেকটা  হ্রাস করা সম্ভব এতে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ আত্মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে
. অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আমদানি :
                বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশে বিভিন্ন ধরনের  জীবনরক্ষাকারী অত্যাবশ্যকীয় পণ্যদ্রব্য, যেমন-ঔষধ সামগ্রী, অত্যাবশ্যকীয় শিল্প সামগ্রী , রাসায়নিক দ্রব্যদি, জ্বালানী তৈল, দেশ রক্ষাকারী বিভিন্ন সারঞ্জাম্য, যেমন : গোলা-বারুদ, ট্রাংক, কামান, যুদ্ধ বিমান, জাহাজ ইত্যাদি চাহিদানুযায়ী আমদানি করে দেশের মানুষের সুখ স্বাচ্ছন্দময় নিরাপদ জীবন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে
. খাদ্য ঘাটতি অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা :
                বাংলাদেশ জনবহুল কৃষি নির্ভর অর্থনীতির একটি দেশ এদেশে উৎপাদিত কৃষি পণ্য দেশের জনসংখ্যার প্রয়োজনের তুলনায় কম তাই প্রতি বছর দেখা দেয় খাদ্য ঘাটতি তদুপরি প্রায় প্রতি বছরই এদেশে দেখা দেয় বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাদি নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাই খাদ্য ঘাটতি প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, বস্ত্র, পোষাক ইত্যাদি আমদানি করে জীবন যাত্রার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা যায়
. দেশীয় পণ্যে সেবায় আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ :
                বৈদেশিক বাণিজ্য আপেক্ষিত ব্যয় সুবিধার ভিত্তিতে পণ্যদ্রব্য আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তুলনামূলক ব্যয় সুবিধা থাকার কারণে বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের বহু প্রচলিত-অপ্রচলিত কৃষিজাত হস্তশিল্পজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে এসব পণ্য বিদেশে  রপ্তানি করে ক্রমবর্ধমান হারে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি যেমন সম্ভব, তেমনি রপ্তানি আয় অর্জনও সম্ভব ফলে  পৃথিবীর বহু দেশে বাংলাদেশী  পণ্য বা সেবার বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব
. প্রযুক্তি কারিগরি জ্ঞানের আমদানি :
                বৈদেশিক বিভিন্ন দেশের মধ্যে উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি, নতুন নতুন চিন্তাধারা, কৌশল কারিগরি জ্ঞানের বাহক হিসেবে কাজ করে উন্নত দেশে উদ্ভাবিত নতুন নতুন এরূপ প্রযুক্তি. উৎপাদন কৌশল, কারিগরি জ্ঞান নিজ দেশে আমদানি করে তার সরাসরি ব্যবহার অথবা তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সংশোধন পরিমার্জন সাধন করে উৎপাদনে প্রয়োগ করে দেশীয় শিল্প কৃষি উৎপাদন বহু গুনে বৃদ্ধি করা যায়
১০. বৈদেশিক বিনিয়োগ মূলধন প্রবাহ আকৃষ্টকরণ :
                বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমাদের দেশে তুলনামূলক  ব্যয় সুবিধা বিদ্যমান এমন বহু খাতে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ অথবা যৌথ মালিকানায় শিল্পকারখানা স্থাপন করে দেশের অবহেলিত বস্তুুগত প্রাকৃতিক সম্পদ বেকার জনশক্তির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এতে দেশের সম্পদের সদ্ব্যবহারপূর্বক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায় বৈদেশিক বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এদেশে ইতোমধ্যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ বহু শিল্প পার্ক স্থাপন করা হয়েছে
১১. দেশীয় ব্যবসায়ের একচেটিয়া প্রভাব রোধ :
                বৈদেশিক বাণিজ্য তথা আমদানির মাধ্যমে দেশের অভ্যান্তরে কোনো বিশেষ পণ্য উৎপাদন বাজারজাতকরণে দেশীয় ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া প্রভাব রোধ করা যায় দেশীয় উৎপাদকগণ কর্তৃক উৎপাদিত কোনো পণ্যের বাজার যদি একচেটিয়া কর্তৃত্ব অর্জন করে তবে বিদেশ থেকে উক্ত পণ্যের সমজাতীয় বা বিকল্প পণ্য আমদানি করে বাজারে প্রতিযোগীতার সৃষ্টি করা যায় এবং এতে দেশীয় পণ্যের একচেটিয়া প্রভাব হ্রাস পায় এবং পণ্যমূল্য স্বাভাবিক হয় পড়ে
১২. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি :
                বৈদেশিক বাণিজ্যের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে তুলনামূলক ব্যয় সুবিধার ভিত্তিতে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়ে, সহযোগিতা আন্তরিকতার সম্পর্কের উর্ন্নয়ন ঘটে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে কৃষ্টি, কলা, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত ইত্যাদির বিনিময়ের বিশ্বব্যাপি পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটে এতে বিশ্বময় ভাবগত, আদর্শগত বৈরীতা দূরীভূত হয় এবং সূচীত হয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সহমর্মিতার
        ÿ  পরিশেষে বলা যায় বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন, বেকার সমস্যার সমাধান, দারিদ্র বিমোচন, জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ়করণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৈদেশিক বাণিজ্যের ভূমিকা/গুরুত্ব অনস্বীকার্য তবে বৈদেশিক বাণিজ্যে আমদানি নির্ভরতার ব্যাপকতার হ্রাস, দেশের কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে বাণিজ্যের প্রতি আমাদের বিশেষ গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন

À  বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সাম্প্রতিক গতিধারা সম্ভাবনা :
                সাম্প্রতিক বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যান্তরীণ চাহিদা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বহূলাংশে পরিবর্তিত হয়েছে ফলে এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে কিছু প্রকৃতি পরিবর্তন, প্রসারিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্র
. রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ :
                সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের পূর্বাপেক্ষা বৈচিত্র্যকরণ করা হয়েছে অতীতে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য মূলত পাট পাটজাত দ্রব্য, চা, চামড়া প্রভৃতি মুষ্টিমেয় কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল ছিল বর্তমানে কৃষিজ দ্রব্যের পাশাপাশি হিমায়িত খাদ্য , শাকসবজি, তাজা ফুল, টাটকা ফল, কম্পিউটার সফ্টওয়ার, আমদানি পুতুল প্রভৃতি অপ্রচলিত পণ্য সংযোজিত হয়েছে
. শিল্পজাত দ্রব্যের রপ্তানি :
                বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ হলেও সম্প্রতি এদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে শিল্পজাত দ্রব্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশ পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক, কাগজ, ঔষধ বৈদ্যুতিক তার ক্যাবল প্রভৃতি শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি করে থাকে
. -পাটজাত দ্রব্যের রপ্তানি বৃদ্ধি :
                অতীতে বাংলাদেশের কাঁচাপাট পাটজাত দ্রব্য ছিল প্রধান রপ্তানি পণ্য কিন্ত বর্তমানে রপ্তানি ক্ষেত্রে -পাটজাত দ্রব্যের রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে যেমন- ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে পাট পাটজাত দ্রব্যের অবদান ছিল ১১% এবং -পাটজাত দ্রব্যের অবদান ছিল ৮৯% অথচ ২০১১-১২ অর্থবছরে পাট পাটজাত দ্রব্যে অবদান হ্রাস পেয়ে ৯৭% দাঁড়ায় এবং -পাটজাত দ্রব্যের অবদান বৃদ্ধি পেয়ে % উন্নীত হয়
. অপ্রলিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি :
                স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে অপ্রচলিত পণ্যে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রপ্তানি পণ্যের তালিকায় নতুন নতুন অপ্রচলিত পণ্য সংযোজিত হচ্ছে
. বিলাসজাত দ্রব্যের আমদানি হ্রাস :
                বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে বিলাসজাত দ্রব্যের আমদানি হ্রাস করা হয়েছে ব্যবস্থার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়
. আমদানি ক্ষেত্রে একচেটিয়া প্রভাব হ্রাস :
                স্বাধীনতা-পূর্ব কালে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে কতিপয় বিত্তশালী আমদানি কারকদের একচেটিয়া আদিপত্য ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবস্থার যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটেছে বর্তমানে দেশের সকল আমদানিকারকদের বাণ্যিজ্যের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রধান করা হয়েছে ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুষ্টিমেয় ধনী শ্রেণীর একচেটিয়া প্রভাব অনেকটা হ্রাস পেয়েছে
. ওয়েজ আর্নাস স্কীম :
                প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণ তাদের অর্জিত মুদ্রা দ্বারা কতিপয় নির্ধারিত পণ্য আমদানি করার জন্য স্কীম চালু করা হয়েছে স্কীমের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় স্কীমের আওতায় ২০০৪-০৫ অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রবাসীরা .৭২ লক্ষ মিলিয়ন টাকা দেশে প্রেরণ করে
. জনশক্তি রপ্তানি :
                স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এদেশের জনশক্তি রপ্তানি হয় ২০১০-১১ অর্থবছরে জনশক্তি রপ্তানি বাবদ ১১,৫৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া যায় ২০১১-১২ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাসে খাতে রপ্তানি আয় ৮৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়
. বাণিজ্য সম্পর্কে বিকেন্দ্রকরণ:
                        পাকিস্থান আমলে চীন ছাড়া সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ ভারতের সাথে বাংলাদেশের তেমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল না স্বাধীনতা-উত্তরকালে এদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিস্তৃত বিকেন্দ্রীকৃত হয়েছে বর্তমানে পশ্চিমা ধনতান্ত্রিক দেশসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশ আফ্রিকা মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে
১০. সার্কভূক্ত দেশসমূহের সাথে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক :
                        সার্ক গঠিত হওয়ার পর থেকে সার্কভূক্ত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সার্কভূক্ত অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করছে
১১. বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঘাটতি বৃদ্ধি :
                        সীমিত রপ্তানি আয় ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়ের জন্য বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঘাটতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ,৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে পূবর্তী একই সময়েএ ঘাটতির পরিমান ছিল ৫১৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
১২. যন্ত্রপাতি শিল্পের কাঁচামাল আমদানির উপর অগ্রাধিকার :
                        দেশকে শিল্পায়িত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কাঁচামাল আমদানির উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে
১৩. বেসরকারি খাতে বাণিজ্য বৃদ্ধি :
                        স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমদানি রপ্তানি ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং আমদানি রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে
১৪. নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা :
                        আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম এজন্য সরকার নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছে ২০০৩-০৬ আমদানি নীতিতে কতক গুলো শর্তারোপের মাধ্যমে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে দেশে মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগই সমুদ্র পথে করা হয়
১৫. খাদ্য শস্য আমদানি হ্রাস :
                        কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবছর বাংলাদেশকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয় সম্প্রতি বাংলাদেশ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্দি খাদ্যশস্য আমদানি হ্রাসের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে
১৬. সরকারি নিয়ন্ত্রন :
                        বর্তমানে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আমদানি-রপ্তানি সংঘটিত হলেও বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সরকারি প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে অর্থাৎ বৈদেশিক বাণিজ্য সরকারি বিধি-নিষেদের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে
ÿ  উপসংহার:

                উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সম্প্রতি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে জাতীয় অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করলে আগামীতে এদেশের বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে আশা করা যায়
আনোয়ারুল ইসলাম
০১৭৩৮-১৪১৪১৩
অর্থনীতি ৪র্থ বর্ষ
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ।

3 comments: